আধুনিক পদ্ধতিতে লাউয়ের মাচা তৈরি করুন।
আধুনিক পদ্ধতিতে লাউয়ের মাচা তৈরি করলে লাউগাছের ফলন বৃদ্ধি পায় এবং গাছের যত্ন নেওয়া সহজ হয়। নিচে লাউয়ের মাচা তৈরির আধুনিক পদ্ধতি ধাপে ধাপে দেওয়া হলো:
১. উপযুক্ত স্থান নির্বাচন
- লাউগাছের জন্য উঁচু ও পর্যাপ্ত রোদযুক্ত জায়গা নির্বাচন করুন।
- জায়গা বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের উপযুক্ত হতে হবে।
২. মাচার কাঠামো প্রস্তুতি
আধুনিক পদ্ধতিতে লাউয়ের মাচা তৈরির ধাপসমূহ:
১. উপযুক্ত স্থান নির্বাচন
- উঁচু ও রোদযুক্ত জায়গা নির্বাচন করুন: লাউগাছ পর্যাপ্ত সূর্যালোক পেলে দ্রুত বাড়ে ও ভালো ফলন দেয়। বৃষ্টির পানি যাতে সহজে বের হতে পারে, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
২. মাচার কাঠামো তৈরি
- উপকরণ: মাচা তৈরির জন্য বাঁশ, লোহার পাইপ বা প্লাস্টিকের পাইপ ব্যবহার করতে পারেন। বাঁশের মাচা সহজলভ্য ও ব্যয়সাশ্রয়ী।
- কাঠামো স্থাপন:
- প্রতি ৪-৬ ফুট দূরে খুঁটি পুঁতে দিন।
- খুঁটির উচ্চতা ৬-৭ ফুট হলে গাছের বৃদ্ধি ঠিকভাবে হবে এবং গাছের নীচের অংশে বাতাস চলাচল করতে পারবে।
- খুঁটির ওপর লম্বালম্বি এবং আড়াআড়ি করে বাঁশ বা পাইপ লাগান, যাতে পুরো মাচার ওপর লাউগাছ বেয়ে উঠতে পারে।
৩. মাচার আকৃতি
- মাচাটি সাধারণত চতুর্ভুজ বা আয়তাকার হয়। মাচার আকৃতি ঠিক করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যাতে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো প্রতিটি গাছে পৌঁছায়।
৪. গাছের পরিচর্যা
- লাউগাছ লাগানো: মাচার খুঁটির চারপাশে ১-২ ফুট দূরে লাউগাছের চারা বা বীজ লাগান।
- বাঁধাই: লাউগাছ যখন একটু বড় হয়, তখন গাছের ডালপালা মাচার সঙ্গে বেঁধে দিতে হবে, যাতে গাছ ঠিকমতো বেড়ে ওঠে।
৫. সেচ এবং পানি নিষ্কাশন
- মাচার নিচে পানি জমতে দেবেন না। পানি জমলে গাছের মূল পচে যেতে পারে। গাছের জন্য পর্যাপ্ত পানি দিতে হবে, তবে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. মাচার উপকারিতা
- ফলন বৃদ্ধি: মাচায় গাছ উঠলে আলো এবং বাতাস সঠিকভাবে পায়, যা ফলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- পরিচর্যা সহজ: গাছের পোকামাকড় ও রোগ নির্ধারণ করা এবং চিকিৎসা দেওয়া সহজ হয়।
- ফল তোলা সহজ: মাচা ব্যবহারের ফলে ফল তুলতে সুবিধা হয় এবং ফলের আকারও বড় হয়।
এই আধুনিক পদ্ধতিতে মাচা তৈরি করলে লাউগাছের ভালো বৃদ্ধি হবে এবং ফলনের পরিমাণও অনেক বাড়বে।
আজকের আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url